নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায় - জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ | Class 9 Life Science 4th Chapter Wbbse
নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায় - জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ | Class 9 Life Science 4th Chapter WBBSE
নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায় জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ | class 9 life science 4th chapter wbbse
A. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর।
1. কোন রোগে দেহের স্বাভাবিক ইমিউনিটি নষ্ট হয়ে যায়-
[A] যক্ষা
[B] পোলিও
[C] হেপাটাইটিস বি
[D] AIDS
উত্তর- [D] AIDS
2. AIDS রোগ সংক্রামিত হয় না-
[A] একসঙ্গে কথা বললে।
[B] করমর্দন
[C] যৌন মিলন
[D] রক্তসঞ্চারণ
উত্তর- [A] একসঙ্গে কথা বললে এবং [B] করমর্দন।
3. প্রথম গুটি বসন্তের টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়-
[A] 1780 খ্রিস্টাব্দে
[B] 1790 খ্রিস্টাব্দে
[C] 1796 খ্রিস্টাব্দে
[D] 1792 খ্রিস্টাব্দে
উত্তর- [C] 1796 খ্রিস্টাব্দে
4. সব অ্যান্টিবডিই -
[A] গামা গ্লোবিউলিন
[B] গ্লোবিউলিন
[C] আলফা গ্লোবিউলিন
[D] কোনটাই নয়
উত্তর- [B] গ্লোবিউলিন
5. AIDS কি জাতীয় রোগ-
[A] ভাইরাস
[B] ব্যাকটেরিয়া
[C] প্লাসমোডিয়াম
[D] কোনটাই নয়
উত্তর- [A] ভাইরাস জাতীয়।
6. মুখ দিয়ে প্রবেশ করানো হয় কোন যে ভ্যাকসিন-
[A] পোলিও
[B] কলেরা
[C] ডেঙ্গু
[D] কোনটাই নয়
উত্তর- [A] পোলিও
7. ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক পতঙ্গের নাম হল-
[A] আরশোলা
[B] স্ত্রী এডিস মশা
[C] মাছির দ্বারা
[D] কোনটাই নয়
উত্তর- [B] স্ত্রী এডিস মশা
8. অ্যান্টিবডি উৎপন্নকারী বস্তুকে বলা হয়-
[A] ইমিউনোজেন
[B] অ্যান্টিজেন
[C] মিউসিনোজেন
[D] কোনটাই নয়
উত্তর- [B] অ্যান্টিজেন
9. নীচের কোনটি জলবাহিত রোগ-
[A] ডায়ারিয়া
[B] ম্যালেরিয়া
[C] টিটেনাস
[D] এইচআইভি
উত্তর- [A] ডায়ারিয়া
Class 9 life science chapter 4
B. সত্য মিথ্যা নির্ণয় কর
1. ম্যালেরিয়া রোগের প্যাথোজেনের নাম ডিপ্লোকক্কাস?
উত্তর- মিথ্যা
2. ল্যাটিন শব্দ Vacca থেকে ভ্যাকসিন কথাটি এসেছে।
উত্তর- সত্য
3. তড়িৎ শক্তি একপ্রকার ভৌত এজেন্ট।
উত্তর- সত্য
4. যক্ষা রোগের জীবাণুটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া।
উত্তর- সত্য
5. এন্টিবডির রাসায়নিক প্রকৃতি হল প্রোটিন।
উত্তর- সত্য
6.অ্যাজোটোব্যাকটর হলো নাইট্রোজেন স্থিতিকারী ব্যাকটেরিয়া
উত্তর- সত্য
7. যক্ষা রোগের ভ্যাকসিন হলো BCG।
উত্তর- সত্য
8. vitamin B12 উৎপাদনে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।
উত্তর- সত্য
9. নস্টক স্বাধীনজীবী সায়ানোব্যাকটেরিয়া।
উত্তর- সত্য
10. জীব সার প্রয়োগে জমির উর্বরতা প্রচন্ডভাবে বৃদ্ধি পায়।
উত্তর- সত্য
11. HIV হল এইডস রোগের ভাইরাস।
উত্তর- সত্য
নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায়
C. শন্যস্থান পূরণ কর
1. বসন্ত রোগের টিকা আবিস্কার ------ করেন।
উত্তর- ড: এডওয়ার্ল্ড জেনার
2. জীবের সংক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে ------ বলে।
উত্তর- অনাক্রম্যতা
3. ডেঙ্গু হলো ------ রোগ।
উত্তর- ব্রেকবোন
4. ------ থেকে প্রস্তুত করা টিকা হল টিটেনাস।
উত্তর- টক্সয়েড
5. সব ------ গ্লোবিউলিন।
উত্তর- অ্যান্টিবডিই
6. দেহেতে ------ তৈরি হয় অ্যান্টিজেনে।
উত্তর- অ্যান্টিবডি
7. পলিস্যাকারাইড এক ধরনের ------ ।
উত্তর- অ্যান্টিজেন
8. ইমিউনোগ্লোবিউলিন এক প্রকারের------।
উত্তর- অ্যান্টিবডি।
9. ম্যাটারনাল অ্যান্টিবডি বলে ------ কে।
উত্তর- IgG
D. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর
1. কোন বস্তু অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে?
উত্তর- অ্যান্টিজেন
2. অনাক্রম্যবিদ্যার জনক কাকে বলে?
উত্তর- Edward Jenner (এডওয়ার্ড জেনার) কে অনাক্রম্য বিদ্যার জনক বলা হয়।
3. DPT কোন কোন রোগের ভ্যাকসিন?
উত্তর- DPT পারটুসিস, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস রোগের ভ্যাকসিন
4. OPV কোন রোগের ভ্যাকসিন?
উত্তর- পোলিও
5. MMR কোন কোন রোগের ভ্যাকসিন?
উত্তর- মাম্পস রোগের, রুবেল্লা রোগের, এবং হাম রোগের ভ্যাকসিন।
6. Tetanus Toxoide কোন রোগের ভ্যাকসিন?
উত্তর- টিটেনাস রোগের ভ্যাকসিন
7. Hepatitis B কোন রোগের ভ্যাকসিন?
উত্তর- হেপাটাইটিস-B রোগের ভ্যাকসিন
8. BCG কোন রোগের ভ্যাকসিন?
উত্তর- যক্ষা রোগের ভ্যাকসিন
9. Typhoid কোন রোগের ভ্যাকসিন?
উত্তর- টাইফয়েজ
10. Pneumococcal Vaccine কি রোগের ভ্যাকসিন?
উত্তর- নিউমোনিয়া
বিভিন্ন ধরনের টিকার নাম লেখ ও টিকাগুলি যে যে রোগে ব্যবহার করা হয় তার নাম লেখ
11. AIDS এর পুরো নাম কি?
উত্তর- AIDS এর পুরো নাম হল Acquired Immuno Deficiency Syndrome
12. DPT পুরো নাম কি?
উত্তর- ডিপথেরিয়া পারটুসিস টিটেনাস (Diptheria Pertussis Tetanus)
13. MMS এর পুরো নাম কি?
উত্তর- Measles,Mumps,Rubella
14. সবচেয়ে বড় আকারের এন্টিবডি নাম কি?
উত্তর- IgM
15. রক্তে বেশি পরিমাণে থাকে এমন এন্টিবডির নাম কি?
উত্তর- lgG
16. মানব শিশুদের জন্মের পরেই যে টিকা দেওয়া হয় তাকে কি বলে?
উত্তর BCG
17. এলার্জি বিক্রিয়া প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে?
উত্তর IgE
18. মাম্পস রোগের জীবাণু কোথায় আক্রমণ করে?
উত্তর- প্যারোটিড গ্রন্থিতে।
19. যে অ্যান্টিবডি মাতৃদুগ্ধে বা কলোস্ট্রাম-এ বেশি থাকে।
উত্তর- IgA
20. দুটি অ্যান্টিজেনের এর উদাহরণ দাও?
উত্তর- প্রোটিন ও নিউক্লিয় প্রোটিন।
21. স্ত্রী এডিস মশা দ্বারা কোন রোগ সৃষ্টি হয়?
উত্তর- ডেঙ্গু।
22. একটি ভাইরাস ঘটিত রোগের নাম লেখ?
উত্তর- হেপাটাইটিস
23. পোলিও রোগের প্রতিষেধক কি?
উত্তর- OPV
24. ডিপথেরিয়া রোগের রোগজীবাণুর নাম কি?
উত্তর- করিনি ব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরি
25. হুপিং কাশির ভ্যাকসিনের নাম কি নাম কি?
উত্তর- DPT
26. দুটি অনুজীবী সার এর নাম লেখ?
উত্তর- ব্যাকটেরিয়া ও মাইক্রোরাইজা
27. সদ্যোজাত শিশুদের যে টিকাটি দেওয়া হয়।
উত্তর- BCG
28. WHO এর পুরো নাম কি?
উত্তর- World Health Organization.
29. টিটেনাস রোগের জীবাণুর নাম কি?
উত্তর টিটেনাস রোগের জীবাণুর নাম হল ক্লাসট্রিডিয়াম টিটেনি।
30. লক-জ কি ঘটিত রোগ?
উত্তর লক-জ বা টিটেনাস ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।
E. টীকা ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর
নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায়
1. অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি কাকে বলে?
উত্তর- আমাদের শরীরে মধ্যে যদি কোন ক্ষতিকর জীবাণু ভাইরাস প্রবেশ করলে বা কোন টক্সিক পদার্থ প্রবেশ করলে দেহ তার নিজস্ব বিশেষ ব্যবস্থার সাহায্যে তাদের নির্মূল করে বা ধ্বংস করে সেই বিশেষ ব্যবস্থা বা পদ্ধতিকে অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি বলে।
2. অনাক্রম্য তন্ত্র কাকে বলে?
উত্তর- দেহে বিভিন্ন কোষ ও অঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহকে রোগ আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে এবং রোগ সৃষ্টিকারী জীবণু বা পদার্থের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে তাকে অনাক্রম্য তন্ত্র (Immunity System) বলে।
3. অনাক্রম্য তন্ত্রের কাজ কি?
উত্তর অনাক্রম্য তন্ত্রের কাজ হল দেহস্ত বা বিজাতীয় বস্তু বা পদার্থের পার্থক্য নিরূপণ করা বিজাতীয় বস্তু বা পদার্থের বিরুদ্ধে দেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা।
4. দেহে প্রতিরোধ ব্যবস্থা কত রকমের হয়?
উত্তর- দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা দু'রকমের হয়।
(1) অনির্দিষ্ট প্রকারের প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
(2) সুনির্দিষ্ট প্রকারের প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
5. অ্যান্টিজেন কাকে বলে
উত্তর- যেসব বিজাতীয় বস্তু বা জীবাণু প্রাণীর দেহে প্রবেশ করলে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয় তাদের অ্যান্টিজেন বলে।
6. অ্যান্টিজেন কত প্রকার ও কি কি
7. এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন ও এন্ডোজেনাস এন্টিজেন কাকে বলে?
উত্তর এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন-এক্সোজেনাস অ্যান্টিজেন বলতে বোঝায় প্রাণীদেহের বাইরে উৎপন্ন হয় যেসব অ্যান্টিজেন।
এন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেন- প্রাণীদেহের ভেতরে উৎপন্ন হয় যেসব অ্যান্টিজেন তাদের বলা হয় এন্ডোজেনাস অ্যান্টিজেন।
8. ডায়ারিয়ার উপসর্গগুলি উল্লেখ করো?
উত্তর- বারংবার পাতলা পায়খানা হবে। বারংবার বায়ুত্যাগ হবে। মলত্যাগ এর সময় মল অপেক্ষা জলের পরিমাণ বেশি থাকবে। মলের সঙ্গে রক্তপাতও হতে পারে। জ্বর জ্বর ভাব থাকবে। বমি বমি ভাব থাকবে
9. অ্যান্টিবডি কাকে বলে?
উত্তর-অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে আমাদের দেহের মধ্য বাইরে থেকে আসা এন্টিজেন বিনষ্টকারী প্রবেশ করলে তাদের বাধা দেওয়ার জন্য যেসব প্রোটিনের আবির্ভাব ঘটে তাদের অ্যান্টিবডি বলে।
10. অ্যান্টিবডি কত প্রকারের? অথবা
দেহে কত রকমের অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন দেখা যায় ও কি কি?
উত্তর- দেহে পাঁচ রকমের অ্যান্টিবডি দেখা যায়। এগুলি হল (1) IgG (2) IgA (3) IgM (4) IgD (5) IgE.
IgG ( Immunoglobulin- G
অবস্থান এই অ্যান্টিবডি সাধারণত রক্তে মধ্যেই বেশি থাকে তবে লসিকা ও অন্ত্রে পাওয়া যায়।
কাজ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম।
IgA Immunoglobulin- A) এই ধরনের অ্যান্টিবডি শ্লেষ্মা, ঘাম, লালা, অশ্রু স্তন গ্রন্থিতে থাকে ।
কাজ এই অ্যান্টিবডির কাজ হল দেহকে জীবাণু আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করা
IgM Immunoglobulin- M)
অবস্থান এই অ্যান্টিবডি রক্ত এবং লসিকা ও B লিম্ফোসাইটের উপরিতলে পাওয়া যায়।এই অ্যান্টিবডি সবচেয়ে বড় আকারের হয়।
কাজ এই অ্যান্টিবডি দেহ ব্যাকটেরিয়া ও জীবনুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে।
IgDImmunoglobulin- D) এই প্রকার অ্যান্টিবডি রক্তে সামান্য পরিমাণ অর্থাৎ 2% থাকে। B- লিফ্রোসাইটের পর্দা সংলগ্ন থাকে।
IgE Immunoglobulin- E) এই অ্যান্টিবডি রক্তে অতি সামান্য পরিমানে থাকে প্রায় (0.2%) এই অ্যান্টিবডি মাস্ট কোশ ও বেসোফিল শ্বেতকণিকার পর্দায় সংলগ্ন থাকে ।
কাজ অ্যালার্জির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
11. এন্টিজেন ও এন্টিবডির পার্থক্য
অ্যান্টিজেন
1 আণবিক ওজন কমপক্ষে 10000 ডালটন থাকা প্রয়োজন।
2.অ্যান্টিজেন হলো দেহে ভেতর প্রবেশকারী বহিরাগত বস্তু।
3 রাসায়নিক প্রকৃতিতে এরা প্রধানত প্রোটিন, এছাড়া গ্লাইকোপ্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড হতে পারে।
4 অ্যান্টিজেন সাধারণত লোহিতকণিকার কোশ পর্দায় উপরিতলে থাকে।
5 অ্যান্টিবডির সৃষ্টি হয় অ্যান্টিজেনের প্রভাবে।
অ্যান্টিবডি
1আণবিক ওজন180000 - 900000 ডালটন
2 প্রাণীদেহের ভেতরে অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে উৎপন্ন হয়।
3 রাসায়নিক প্রাকৃতিতে এরা প্রোটিন।
4 অ্যান্টিবডি সাধারণত প্লাজমায় অবস্থান করে।
5 অ্যান্টিজেন সৃষ্টি হয় আন্টিবডির প্রভাবে।
12. মাইকোরাইজা কি, এটি কোথায় থাকে?
উত্তর- মাইকোরাইজা এক ধরনের ছত্রাক।
মাইকোরাইজা সাধারণত পাইন গাছের মূলে বসবাস করে।
13. ম্যালেরিয়া রোগের উপসর্গ বা লক্ষণগুলি লেখ ও প্রতিকার উল্লেখ কর
উত্তর- 1. প্রচন্ড উত্তাপ সহ 103⁰ F থেকে 104⁰F জ্বর আসে।
2. প্রচন্ড শীত করে।
3. প্রচন্ড কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে আবার ঘাম হয়ে জ্বর ছেড়ে যায়।
4. এতে শরীরে দুর্বল হয়ে পড়ে
5. দীর্ঘদিন ম্যালেরিয়ায় ভুগলে প্লৃহা ও যকৃত বড় হয়ে যায়।
ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায় গুলি হল
1 কোথাও জল জমতে না দেওয়া কারণ মশা জলেই ডিম পাড়ে এবং বংশবৃদ্ধি করে।
2 মশারি ব্যবহার করতে হবে যাতে মশা না কামড়ায়।
3 ডাক্তার দিয়ে রুগীর সঠিক চিকিৎসা করাতে হবে।
14. তিনটি ভাইরাসঘটিত রোগের নাম লেখ বা উদাহরণ দাও?
উত্তর-
1 হেপাটাইটিস-A
2 হেপাটাইটিস-B
3 AIDS
15. দুটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগের নাম লেখ?
উত্তর- 1 টাইফয়েড 2 কলেরা 3 প্লেগ।
16. সক্রিয় অনাক্রম্যতা
উত্তর- যে পদ্ধতিতে দেহে জীবাণু বা অ্যান্টিজেনের প্রভাবে দেহের নিজস্ব ইউমিনিটি বা অনাক্রম্যতা-র দ্বারা এন্টিবডি সৃষ্টি হয় এবং অ্যান্টিজেন বা জীবাণু নিষ্ক্রিয় হয় তাকে সক্রিয় অনাক্রম্যতা বলে।
17. নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা
উত্তর-যদি কোন অ্যান্টিবডি দেহের বাইরে থেকে প্রবেশ করিয়ে দেহের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা সৃষ্টি করানো হয় তাকে নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা বলে।
18. রোগ কাকে বলে (Disease)
উত্তর- যে অবস্থায় দেহ ও মনের গঠনগত ও কার্যগত অস্বাভাবিকতা দেখা যায় বা কার্যক্ষমতার হ্রাস পায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় তাকে রোগ বা ডিজিস বলে
19. টিটেনাসের প্রতিকারকের উপায় কি
উত্তর- কেটে গেলে সেই জায়গায় তৎক্ষণাৎ ভালোভাবে পরিষ্কার করে জীবাণু নাশক বা এন্টিসেপটিক ওষুধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ লাগাতে হবে ।২৪ ঘন্টার মধ্যে অ্যান্টিটিটেনাস ইনজেকশন বা TT nus ভ্যাকসিন নিতে হবে।Tetanus toxoid ভ্যাকসিনটি টিটেনাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে 12 থেকে 36 সপ্তাহে 2টি ডোজ নিতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে10 বছর বয়সে 1টি বুস্টার ডোজ নিতে হবে এবং 16 বছর বয়সে আরো 1টি বুস্টার ডোজ নিতে হবে।
20. ধৌতকরণ কাকে বলে এবং রোগ নিরাময়ে ধৌতকরণের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর- যে পদ্ধতিতে মানব দেহকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং রোগমুক্ত রাখতে হলে বিশুদ্ধ পানীয় জল , সুস্বাস্থ্যকর খাদ্যর প্রয়োজন আবার দেহকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার রাখার জন্য মুখধোয়া শরীরের, নখ, চুল, দাঁত পোশাক পরিচ্ছদ ইত্যাদ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং রোগমুক্ত রাখা কে ধৌত করণ বলে
রোগ নিরাময়ে ধৌত করনে ভূমিকা হল
খাদ্যবস্তু ধৌতুকরণ: আমরা বাজার থেকে শাকসবজি যেমন আলু, বেগুন, কুমড়ো, গাজর, টমেটো, বাঁধাকপি, ইত্যাদি ফল যেমন আপেল, পেয়াররা, নেশপাতি, শসা ইত্যাদি কিনে আনি। আমাদের জানতে হবে যে উপরেউক্তি শাকসবজি ফলমূল চাষ করতে প্রচুর পরিমাণ বিষাক্ত কীটনাশক সার ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা যদি ধুয়ে না খাই তাহলে শাকসবজি ফলমূলের সঙ্গে বিষাক্ত কীটনাশক সার বা জীবাণগুলি আমাদের দেহে প্রবেশ করবে এবং আমরা অসুস্থ হয়ে পড়বো তাই শাকসবজি ফলমূল ধৌত করুন প্রক্রিয়ার দ্বারা অর্থাৎ ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করলে আমাদের শরীরের রোগ হবে না বরং উপকার হবে।
শারীরিক ধৌতকরণ পদ্ধতি আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য শারীরিক ধৌতুকরণ পদ্ধতি গুলির হল-
স্নান করা আমরা নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য প্রতিদিন ঘর থেকে বাইরে যাওয়া আশা করি এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র ব্যবহার করি ফলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন প্রকার ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণু আমাদের শরীরে আক্রমণ করে। এই আক্রমণের ফলে আমাদের শরীর খারাপ যাতে না হতে পারে তার জন্য শরীর ধৌতকরণ পদ্ধতি বা প্রতিদিন নিয়মিত সাবান মেখে স্নান করা উচিত যাতে শরীর ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু থেকে রক্ষা পায়।
মুখ ধোয়া আমাদের দেহ সুস্থ রাখার জন্য মুখ ধৌতকরণ পদ্ধতি মেনেচলা অতিআবশ্যক কারন আমরা যখন খাবার খাই তা দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে আটকে থাকে মুখ না ধোয়ার জন্য তা পচে মুখে দুর্গন্ধ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন পর দেখা যাবে দাঁতের গোড়া ফাঁকা হয়ে গেছে অবশেষে মাড়ি ফুলে যাবে এবং পায়রিয়া মত বড় রোগ দেখা দেবে ও দাঁত থেকে সব সময় রক্ত পড়বে। সময়ের আগের সব দাঁত পড়ে যাবে তাই রাত্রে খাওয়ার পর এবং সকালে উঠে ব্রাশ ও জীবনাশক টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন। পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ও চোখ ধুয়ে নিতে হবে।
মাথা ধৌতকরন প্রতিনিয়ত কাজকর্মের ফলে আমাদের মাথায় নোংরা জমে। মাথা অপরিষ্কার রাখলে মাথায় উকুন জন্মায় তাই নিয়মিত শ্যাম্পু ও সাবান দিয়ে মাথা এবং শরীর ভালোভাবে স্নান করা উচিত। ফলে মাথা ও দেহ পরিষ্কার থাকে এবং উকুন, নানা রোগজীবাণু সংক্রমণ থেকে মাথা ও দেহ রক্ষা পায়।
বেশিরভাগ রোগ সংক্রমণ ঘটে আমাদের হাত ও নখের মাধ্যমে তাই নিয়মিত নখ কাটা এবং হাত পরিষ্কার রাখা উচিত।
পোশাক পরিশোধ ধৌতকরন আমাদের নিত্যদিনের ব্যবহৃত জামাকাপড়, অন্তবাস, বিছানার চাদর, রুমাল, বালিশের ঢাকনা, গামছা প্রভৃতি নিয়মিত ভালোভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট, ডেটল, দিয়ে ধৌতকরণ করা দরকার বা ধোয়া দরকার। কারণ আমাদের শরীরের ঘাম এবং বিভিন্ন রোগ জীবাণু কাপড়ে লেগে থাকবে তাতে আমাদের শরীরে চুলকানি, ঘা এবং শরীরে বিভিন্ন চর্ম রোগ দেখা দেবে।
21. ভ্যাকসিন-বা টিকাকরণ
উত্তর- যে পদ্ধতিতে দেহে কোন রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কোন রোগ জীবাণু থেকে প্রস্তুত উপাদান নিয়ে মানুষের শরীরে মধ্যে প্রবেশ করিয়ে সেই রোগের বিরুদ্ধে দেহে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় তাকে ভ্যাকসিন বা টিকা বলা হয়।
22. ডিপিটি (Diptheria, Pertussis, Tetanus)
উত্তর-এই টিকাটি জীবাণু দ্বারা উৎপন্ন টক্সিন কে নিষ্ক্রিয় করে এবং দ্বিতীয় এই টিকাটি ডিপথেরিয়া হুপিপিং কাফ বা পারটুসিস ও টিটেনাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে সাধারণত শিশুদের 3-9 মাস বয়সে 3 টি ডোজ (1-2 মাস অন্তর দিতে হবে) এবং 18 -24 মাস বয়সে 1টি বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।
23. হেপাটাইটিস রোগের উপসর্গ বা লক্ষণ গুলি লেখো?
উত্তর- হেপাটাইটিস রোগীর লক্ষণ হল জ্বর আসবে, মাথা ব্যাথা করবে, গাঁটে গাঁটে ব্যথা, শরীর দুর্বল হতে থাকবে, আস্তে আস্তে খিদে কমে যাবে, বমি বমি ভাব হবে, রোগীর সারা শরীরে জ্বালা জ্বালা ভাব অনুভব হবে এবং রোগীর গাড়োহলুদ রঙের প্রস্রাব হবে। পেটের উপর দিকে ব্যথা হবে।
24. যক্ষা রোগের উপসর্গ বা লক্ষণগুলি লেখো ও সংক্রমণ পদ্ধতি উল্লেখ কর। যক্ষা রোগের ভ্যাকসিন এর নাম কি বা প্রতিষেধক কি?
উত্তর- যক্ষা রোগের উপসর্গ হলো মানব দেহে প্রায় সবসময়ই জ্বর লেগে থাকে। মানসিক অবসাদ আসে। ধীরে ধীরে ওজন হ্রাস পায়, শারীরিক দুর্বলতা বাড়তে থাকে। কাশি বাড়তে থাকে এবং কফের সঙ্গে রক্ত দেখা যায়। বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।খাদ্য গ্রহণে অনীহা আসে। দীর্ঘদিন ধরে কাশি ও কফের সঙ্গে রক্ত আসে।
যক্ষা রোগের সংক্রমণ পদ্ধতি হলো আক্রান্ত রোগীর কাশি থেকে যক্ষা রোগের ব্যাকটেরিয়া বায়ুবাহিত হয়ে অন্যের ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং ফুসফুসে সংক্রমণ করে। আক্রান্ত রোগীর কাশি, থুতু ও কফের মাধ্যমে রোগ ছড়ায় অর্থাৎ আক্রান্ত রোগীর কফ, থুতু থেকে মাছির সাহায্যে রোগ ছড়ায়।
BCG ভ্যাকসিন হল যক্ষা রোগের প্রতিষেধক।
25 বাম স্তম্ভের সঙ্গে ডান স্তম্ভ মেলানো আছে।
উত্তর-
1 অনুজীব সার -- 1 মাইকোরাইজা
2 HBV ভ্যাকসিন -- 2 হেপাটাইটিস B
3 মিশ্র টিকা -- 3 DTP
4 অ্যান্টিবায়োটিক -- 4 নিওমাইসিন
5 পাইনাস -- 5 মাইকোরাইজা
6 সায়ানোব্যাকটেরিয়া -- 6 অলোসিরা
Conclusion
বা উপসংহার
আমি এখানে- নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায় জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ - class 9 life science 4th chapter। তোমাদের উদ্দেশ্যে অতি সহজ ভাষায় যাতে তোমরা সহজে বুঝতে পারো, সেইভাবে করে important প্রশ্ন তার উত্তর লেখা হয়েছে। তোমরা এগুলো ভালোভাবে পড়বে তাহলে রেজাল্ট অবশ্যই ভালো হবে।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment form message